October 10, 2026, 10:48 am

গার্মেন্টসের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানো গেলে জ্বালানি সংকটের চাপ কমবে: সিপিডি

গার্মেন্টসের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানো গেলে জ্বালানি সংকটের চাপ কমবে: সিপিডি

গার্মেন্টস শিল্পের ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বা রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়ানো গেলে দেশের চলমান জ্বালানি সংকটের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীতে ব্র্যাক সেন্টার ইন মিলনায়তনে আয়োজিত পঞ্চম বাংলাদেশ-চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ‘গার্মেন্টস খাতে শিল্পের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ: চীনা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ ফোরামের আয়োজন করে সিপিডি।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছেন। তবে শিল্পকারখানায় আরও আগে থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গেলে বর্তমান সংকটের চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো। শিল্প খাতে রুফটপ সোলারের ব্যবহার আরও সহজ ও উৎসাহিত করা গেলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, গত দুই থেকে তিন বছরে শিল্প খাতে রুফটপ সোলারের ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প নীরবে এ প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ। এর মাধ্যমে একদিকে প্রচলিত জ্বালানির ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে গার্মেন্টস খাতের অঙ্গীকার বাস্তবায়নেও সহায়তা করবে।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক বলেন, শিল্পের ডিকার্বোনাইজেশন নিয়ে এর আগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গার্মেন্টস খাতে শক্তি দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল। পুরোনো ও অদক্ষ যন্ত্রপাতির পরিবর্তে আধুনিক ও শক্তি-সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার করা গেলে জ্বালানির চাহিদা কমানো সম্ভব।

সিপিডির এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষ প্রযুক্তি ও শক্তি-সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে গার্মেন্টস খাতে অন্তত ১৫ শতাংশ জ্বালানি চাহিদা কমানো সম্ভব। এ জন্য প্রায় ১৪০ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।

এবারের ফোরামে শক্তি দক্ষতার পাশাপাশি গার্মেন্টস কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এ বিষয়ে সিপিডি ভিন্নধর্মী পদ্ধতিতে গবেষণা করেছে। সরাসরি কারখানায় গিয়ে জরিপের পরিবর্তে গার্মেন্টস কারখানার ছাদের স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা নিরূপণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গুগল ম্যাপ ও বৈশ্বিক স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করে গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ছাদের আয়তন এবং সেখানে সম্ভাব্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হিসাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় ভবন বিধিমালাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়মও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় গার্মেন্টস শিল্পে রুফটপ সোলারের সম্ভাবনা নিয়ে বেশ কিছু আশাব্যঞ্জক তথ্য পাওয়া গেছে।

চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগকারী উল্লেখ করে গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, এ খাতে চীনের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে, যা বাংলাদেশেও কাজে লাগানোর সুযোগ আছে। বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে চীনা বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে এ খাতে চীনা বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ফোরামে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক শাহ নুসরাত জাহান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (পরিকল্পনা ও পরিচালন) স্বপন বণিক, বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি জাহিদুল আলম এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক মিনহাজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী এবং হা-মীম গ্রুপের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবেশগত টেকসই বিভাগের প্রধান তানজিল চক্রবর্তী। ফোরামে মূল গবেষণা উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা সহযোগী আবরার আহমেদ ভূঁইয়া ও কর্মসূচি সহযোগী নূর ইয়ানা জান্নাত।

ইএটি

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com